জেলা সংবাদ

আড়াইহাজারে পুলিশের মাইক্রোবাসের ধাক্কায় অটোরিকশা উল্টে ৪ স্কুলশিক্ষার্থী আহত

নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজারে ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে একটি অটোরিকশা উল্টে ৪ স্কুলশিক্ষার্থী আহত হয়েছে। শিক্ষার্থী ও স্থানীয়দের অভিযোগ, হাইওয়ে পুলিশ মাইক্রোবাসে করে এসে অটোরিকশাটিকে ধাক্কা দিয়েছে। বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থী ও স্থানীয়রা পরে মাইক্রোবাসটি ভাঙচুর করে আগুন দেন।

আজ সোমবার সকালে উপজেলার পুরিন্দা খন্দকার মোহাম্মদ সাদেকুর রহমান উচ্চ বিদ্যালয়ের সামনে এই ঘটনা ঘটে। পরে শিক্ষার্থী ও এলাকাবাসী মহাসড়কে বিক্ষোভ করে প্রায় এক ঘণ্টা যানচলাচল বন্ধ করে রাখেন।

সর্বশেষ খবর দ্য ডেইলি স্টার বাংলার গুগল নিউজ চ্যানেলে।
স্থানীয়রা দ্য ডেইলি স্টারকে জানান, সকাল সাড়ে ৯টায় শিক্ষার্থীদের নিয়ে একটি অটোরিকশা স্কুলের দিকে আসছিল। এসময় মাইক্রোবাসে থাকা নরসিংদী ইটাখোলা হাইওয়ে পুলিশের একটি দল অটোরিকশাটিকে আটকানোর চেষ্টা করে। এক পর্যায়ে মাইক্রোবাসের ধাক্কায় অটোরিকশাটি উল্টে যায়। অটোরিকশা থেকে পড়ে আহত হওয়া শিক্ষার্থীদের হাসপাতালে না নিয়ে পুলিশ অটোরিকশাসহ চালককে আটক করার চেষ্টা করে। এতে শিক্ষার্থী ও স্থানীয়রা ক্ষুব্ধ হয়ে পুলিশের মাইক্রোবাসটি ভাঙচুর করে আগুন ধরিয়ে দেন।

আহতরা হলেন দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী মো. ইউসুফ, আরেফা আক্তার মিম এবং অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থী ফাহিমা আক্তার ও রাবেয়া আক্তার। স্থানীয়রা তাদেরকে নরসিংদী জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যান। আহত ফাহিমা ও রাবেয়া প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়ে বাড়ি ফিরেছে।

জানতে চাইলে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক এ কে এম মফিজুল ইসলাম দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, ‘হাইওয়ে পুলিশের মাইক্রোবাসের ধাক্কায় শিক্ষার্থীদের বহন করা একটি অটোরিকশা উল্টে রাস্তার পাশে খাদে পড়ে যায়। আহত চার জনের মধ্যে দুজন এখনো চিকিৎসাধীন।’

তিনি আরও বলেন, ‘ঘটনার পর শিক্ষার্থীরা ও স্থানীয় গ্রামবাসী মহাসড়কে বিক্ষোভ করে পুলিশের মাইক্রোবাস ভাঙচুর করে আগুন ধরিয়ে দেয়। খবর পেয়ে পুলিশ ও আমরা গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনি। শিক্ষার্থীদের স্কুলে নিয়ে আসি। পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা এসে সুষ্ঠু বিচারের আশ্বাস দিয়েছেন। শিক্ষার্থীদেরকে বলেছে, পুলিশের অপরাধ থাকলে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

তবে শিক্ষার্থীদের বহন করা অটোরিকশায় ধাক্কা দেওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করেছে হাইওয়ে পুলিশ।

নরসিংদী ইটাখোলা হাইওয়ে পুলিশ ফাঁড়ির অফিসার ইনচার্জ মোহাম্মদ নূর দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, ‘পুরিন্দা এলাকায় একটি অটোরিকশা দুর্ঘটনার খবর পেয়ে আমাদের একটি টিম সেখানে যায়। হাইওয়েতে অটোরিকশা নিষিদ্ধ। আমরা অটোরিকশাটি নিয়ে আসতে চাইলে অটোরিকশা চালকরা বিশৃঙ্খলা তৈরি করে মাইক্রোবাস ভাঙচুর করে আগুন দেয়।’

মাইক্রোবাসটি পুলিশের নিজস্ব গাড়ি নয়, রিকুইজিশন করা ছিল বলে জানান তিনি।

হাইওয়ে পুলিশ গাজীপুর অঞ্চলের নারায়ণগঞ্জ সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার অমৃত সূত্রধর দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, ‘পুলিশের গাড়ির সঙ্গে দুর্ঘটনা ঘটেছে বিষয়টি এমন না। মূলত অটোরিকশাটি মহাসড়ক থেকে নিচে নামতে গিয়ে উল্টে যায়। অনেক মনে করেছে মাইক্রোবাস ধাক্কা দিয়ে ফেলে দিয়েছে। এতে শিক্ষার্থী, এলাকাবাসী ও অটোরিকশা চালকরা মিলে এ ঘটনা ঘটায়।’

এ ঘটনায় তদন্ত করে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।

আরও দেখুন

সম্পৃক্ত

এছাড়াও পড়ুন
Close
Back to top button