
ইসরায়েলের ড্রোন হামলায় গাজা সিটিতে একজন ফিলিস্তিনি ক্যামেরাম্যান নিহত হন। এই নিয়ে গত বছরের অক্টোবর হতে এখন পর্যন্ত গাজায় নিহত সাংবাদিকদের সংখ্যা বেড়ে ২৪৮ জনে দাঁড়ালো।
৩১ আগস্ট এই ঘটনায় ফিলিস্তিনি সাংবাদিকদের ওপর নতুন করে হামলার অভিযোগ উঠেছে। গাজার গভর্নমেন্ট মিডিয়া অফিস নিহত ক্যামেরাম্যানের নাম রাসমি জিহাদ সালেম বলে নিশ্চিত করে। তিনি মানারা মিডিয়া কোম্পানির হয়ে কাজ করছিলেন। আল-জালাআ স্কোয়ারের কাছে আবু আল-আমিন সড়কে চালানো ড্রোন হামলায় তার মৃত্যু হয়েছে। মিডিয়া অফিস ইসরায়েলের বিরুদ্ধে ফিলিস্তিনি সাংবাদিক এবং গণমাধ্যমকর্মীদের পরিকল্পিতভাবে হত্যার অভিযোগ তুলেছে। সংস্থাটি এই হত্যাকাণ্ডকে সংবাদপত্রের বিরুদ্ধে ‘পদ্ধতিগত অভিযান’ বলেও আখ্যা দিয়েছে।
মিডিয়া অফিস আন্তর্জাতিক সাংবাদিক ফেডারেশন, আরব সাংবাদিক ইউনিয়ন ও বিশ্বব্যাপী সাংবাদিক সংগঠনগুলোকে এই ‘পদ্ধতিগত অপরাধে’র নিন্দা জানানোর আহ্বানও জানিয়েছে। একইসঙ্গে তারা আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর কাছে ইসরায়েলকে জবাবদিহির আওতায় আনার তাগিদও দিয়েছে।
মিডিয়া অফিস আরও অভিযোগ করে যে, ইসরায়েলের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, জার্মানি ও ফ্রান্সও গাজায় চলমান ‘গণহত্যা’র অংশীদার। তারা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি সাংবাদিক হত্যা বন্ধে ইসরায়েলের ওপর চাপ সৃষ্টি ও সাংবাদিকদের সুরক্ষা নিশ্চিত করার আহ্বানও জানিয়েছে। এছাড়াও, আন্তর্জাতিক আদালতে ইসরায়েলকে জবাবদিহির মুখোমুখি করার ওপরেও জোর দিয়েছে।
গত বছরের অক্টোবর হতে গাজায় ৬৩ হাজার ৬০০-এর বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হন। অব্যাহত সামরিক অভিযানে পুরো উপত্যকা ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে ও দুর্ভিক্ষের কবলে পড়েছে। গত নভেম্বর মাসে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত (আইসিসি) ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ও সাবেক প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইয়োভ গ্যালান্তের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করে। তাদের বিরুদ্ধে গাজায় যুদ্ধাপরাধ এবং মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগ আনা হয়। তাছাড়াও, আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে গাজায় যুদ্ধ পরিচালনার জন্য ইসরায়েলের বিরুদ্ধে গণহত্যার মামলাও চলছে।




