
সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালসহ তিনজনের বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধ মামলার সাক্ষ্যগ্রহণ আজ সোমবার (২২ সেপ্টেম্বর) ২০তম দিনে গড়াবে।
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বেঞ্চ আজকের কার্যক্রম শুরু করবেন। দিনের শুরুতেই প্রতিরক্ষাপক্ষের রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী মো. আমির হোসেন জেরা করবেন ইউনাইটেড পিপলস বাংলাদেশ (আপ বাংলাদেশ) আহ্বায়ক আলী আহসান জুনায়েদকে। এরপর নতুন সাক্ষীর জবানবন্দি নেওয়া হতে পারে। প্রসিকিউশন ইতোমধ্যে আরও তিনজন সাক্ষী হাজির করার আবেদন জানিয়েছে।
এর আগে ২১ সেপ্টেম্বর জুনায়েদের সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হয়ে দুপুর থেকে বিকেল পর্যন্ত চলে। তবে জেরা শেষ না হওয়ায় তা আজ পর্যন্ত মুলতবি রাখা হয়। মামলার ৪৮তম সাক্ষী হিসেবে জুনায়েদ ২০১৩ সালের কোটাবিরোধী আন্দোলন থেকে শুরু করে ২০২৪ সালের জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থান পর্যন্ত বিভিন্ন ঘটনার বিবরণ দেন। একইদিন জাতীয় নাগরিক পার্টির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামের জেরা সম্পন্ন হয়।
প্রসিকিউশনের পক্ষে মিজানুল ইসলাম ও গাজী এমএইচ তামিম শুনানি পরিচালনা করছেন। তাদের সঙ্গে রয়েছেন প্রসিকিউটর ফারুক আহাম্মদ, আবদুস সাত্তার পালোয়ান ও তারেক আবদুল্লাহসহ আরও অনেকে।
মামলায় ইতোমধ্যে গুরুত্বপূর্ণ কয়েকজন সাক্ষী আদালতে তথ্য দিয়েছেন। গত ২ সেপ্টেম্বর সাবেক আইজিপি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুন রাজসাক্ষী হিসেবে আদালতে উপস্থিত হয়ে জানান, শেখ হাসিনা ও কামালের নির্দেশে গত বছরের জুলাই-আগস্টে দেশব্যাপী হত্যাযজ্ঞ সংঘটিত হয়। তিনি দায় স্বীকার করে ক্ষমা প্রার্থনা করেন এবং আদালতে বহু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য উপস্থাপন করেন। এর বাইরে চিকিৎসক, সাংবাদিক ও প্রত্যক্ষদর্শী সাক্ষীরাও জবানবন্দি দিয়েছেন।
সাক্ষীদের বক্তব্যে উঠে এসেছে, ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের আন্দোলনে সারা দেশে ব্যাপক হত্যাযজ্ঞ ও নৃশংসতা সংঘটিত হয়েছিল। শহীদ পরিবার ও প্রত্যক্ষদর্শীরা অভিযুক্তদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেছেন।
উল্লেখ্য, গত ১০ জুলাই শেখ হাসিনা, কামাল ও চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুনের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরু করে ট্রাইব্যুনাল। গণহত্যা, হত্যা ও অন্যান্য মানবতাবিরোধী অপরাধসহ মোট পাঁচটি অভিযোগ আনা হয়েছে।
আট হাজার ৭৪৭ পৃষ্ঠার অভিযোগপত্রে রয়েছে দুই হাজার ১৮ পৃষ্ঠার তথ্যসূত্র, চার হাজার পাঁচ পৃষ্ঠার জব্দ তালিকা ও প্রমাণাদি এবং দুই হাজার ৭২৪ পৃষ্ঠার শহীদদের তালিকা। মামলায় মোট সাক্ষীর সংখ্যা ৮১ জন। গত ১২ মে তদন্ত সংস্থা চিফ প্রসিকিউটরের কাছে প্রতিবেদন জমা দেয়।





